| ছবি: স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের তোলা (সংগৃহীত)
ফার্মগেটে মেট্রোরেল দুর্ঘটনা: লোহার যন্ত্রাংশে চাপা পড়ে এক পথচারীর মর্মান্তিক মৃত্যু নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাদেশ দিগন্ত | ঢাকা, ২৬ অক্টোবর ২০২৫ রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের একটি ভারী যন্ত্রাংশ পড়ে এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম আজাদ (৩৫), তিনি শেরেবাংলা নগর এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে মেট্রোরেলের পিলার নম্বর ২৩৯-এর পাশে হঠাৎ বিকট শব্দে কিছু একটা ভেঙে পড়ার শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই দেখা যায়, ওপর থেকে একটি বিয়ারিং প্যাড (মেট্রোরেল গার্ডার স্থিতিশীল রাখার ভারী রাবার-লোহার অংশ) নিচে পড়ে পথচারী আজাদের মাথায় লাগে। ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যান, তবে চিকিৎসকরা আবুল কালামকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন হালকা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে “যান্ত্রিক ত্রুটি” বা “স্থাপনাজনিত দুর্বলতা” থেকে যন্ত্রাংশটি খুলে পড়েছে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ওই অংশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়, পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পুনরায় চালু করা হয় মেট্রোরেল সার্ভিস। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী ইরিন আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আমার স্বামী প্রতিদিনের মতো অফিসে যাচ্ছিলেন। আমি ভাবিনি রাস্তায় হঠাৎ এভাবে ওকে হারাতে হবে। এটা শুধু দুর্ঘটনা নয় — যারা দায়িত্বে ছিল তারা যদি ঠিকভাবে কাজ করত, আমার স্বামী আজ বেঁচে থাকত।” পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (DMTCL) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং পরিবারের যোগ্য কোনো সদস্যকে চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানীর এই দুর্ঘটনা আমাদের নগর নিরাপত্তার বড় একটি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মেট্রোরেল চালুর পর থেকে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এমন যন্ত্রাংশ-পতনের ঘটনা হলেও এবার প্রাণহানি ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আরও কড়া নজরদার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছে। দিন শেষে ফার্মগেটের ব্যস্ত রাস্তায় লোহার সেই দাগ এখনও তাজা — কিন্তু তাতে শেষ হয়ে গেছে এক কর্মজীবী মানুষের জীবন, যার দুই ছোট সন্তানের চোখে এখনো প্রশ্ন: “আব্বা কই গেল?”