প্রকাশ : ... | ... | ...

অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিও ভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি


সংযুক্ত ছবি

মানবিক নেত্রী প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসী। | ছবি: খাইরুল ইসলাম ঢাকা জেলা প্রতিনিধি।

অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিও ভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি স্টাফ রিপোর্টার: অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়সমূহের স্বীকৃতি ও এমপিও ভুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ইং (রবিবার) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারাদেশের অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীগণ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল, ইটবাড়িয়া, পটুয়াখালী সদর-এর প্রধান শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌসী-এর নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, “তারা এই সমাজের অভিশাপ নয়, তারা আমাদের সন্তান। সমাজে তাদের অবহেলা বা লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই চলবে না। রাষ্ট্রের উচিত তাদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।” বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়সমূহের স্বীকৃতি ও এমপিও ভুক্তির দাবিতে সারাদেশে বিভিন্ন মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। সংগঠনটির সভাপতি মোঃ ইলিয়াস রাজ, মুখ্য সমন্বয়ক মোঃ গাউসুল আজম শীমু এবং সাধারণ সম্পাদক মোছা রিমা খাতুন বলেন, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়সমূহের স্বীকৃতি ও এমপিও ভুক্তির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেই প্রজ্ঞাপনের আওতায় ২,৭৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। যাচাই-বাছাই শেষে ১,৭৭২টি প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতির জন্য প্রস্তুত করা হলেও এখনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর আগে স্বীকৃতি প্রাপ্ত ৫৭টি বিদ্যালয়সহ আবেদনকারী বিদ্যালয়সমূহের শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৯ দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কর্তৃপক্ষের মৌখিক আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আবারও ২৩তম অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সংগঠনটির দাবি, মানবেতর জীবনযাপনকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের এই আন্দোলন মূলত সরকারের শিক্ষা উন্নয়ন নীতিকে সহায়তা করতেই গৃহীত হয়েছে। তারা বিশ্বাস করেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য এমপিওভুক্তি ও স্বীকৃতি নিশ্চিত হলে বৈষম্যহীন সোনার বাংলাদেশ গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। ৫ দফা দাবি: * অনতিবিলম্বে সকল বিশেষ (অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী) বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিও ভুক্তি নিশ্চিত করা। * সকল বিশেষ বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ। * বিশেষ শিক্ষার্থীদের মাসিক শিক্ষা উপবৃত্তি ৩,০০০ টাকা নির্ধারণ। * মিড-ডে মিল, শিক্ষা উপকরণ, খেলাধুলার সরঞ্জাম ও থেরাপি সেন্টার চালু করা। * ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী কোটার পূর্ণ বাস্তবায়ন। বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদ আশা করছে— সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। স্থান: জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা, তারিখ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ইং, আয়োজক: বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা।