বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম টেকনাফ কক্সবাজার:
চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা এলাকায় র্যাব-৭ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার এবং একজন ব্যক্তিকে আটক করার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানে ১৭ হাজার ৭২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ সিদ্দিকের ছেলে মোহাম্মদ আইয়ুবকে আটক করা হলেও উদ্ধারকৃত ইয়াবার প্রকৃত মালিকানা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায়ই বাহক বা পরিবহনকারীরা আটক হলেও মাদক সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক, অর্থের জোগানদাতা ও গডফাদাররা অধিকাংশ সময় আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়। ফলে ইয়াবার এই বড় চালানের পেছনে কারা রয়েছে, কার নির্দেশে মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল এবং এর চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় ছিল—এসব প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
সচেতন মহলের দাবি, আটক আইয়ুব কেবল একজন পরিবহনকারী নাকি তিনি নিজেই এই চালানের মালিক—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য সহযোগী, মাদক ব্যবসার নেপথ্যের কারিগর এবং পুরো নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কিছু সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে আসছে। মাঝেমধ্যে চালান আটক হলেও মূল হোতাদের গ্রেফতার না হওয়ায় মাদক কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিটি বড় চালান উদ্ধারের ঘটনায় প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযানের প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে যখন কেবল বাহক নয়, বরং ইয়াবা ব্যবসার নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা এবং সিন্ডিকেট প্রধানদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবেই সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।